ঘামের গাথা : আলী হোসেন
একটি রাজনৈতিক ছড়া
ঘামের স্রোতে কাটছি সাঁতার, সকাল থেকে সন্ধ্যা
যে-স্রোতের গতি মন্দা হলেই, সভ্যতা হয় বন্ধ্যা
সেই স্রোতেতেই কাটছি সাঁতার, দুহাত ভেবে দাঁড়
কেন তোমার মতোই দামি আমি, মানতে কাটে ঘাড়।
এমন কেন তোমার আইন, বলতে পারো তুমি?
লক্ষ পুরুষ থেকেও কেন আমার হয় না ভূমি!
তোমার সাথে আমার তফাৎ করলো যারা তারা
এদেশটাকে ভাবলো বিভুঁই, হলাম ভিটে ছাড়া
এমন করে ভাবায় যারা, তাঁরা নয়তো আপন কেউ
এর প্রতিবাদ করলে তারাই লেলিয়ে দিচ্ছে ফেউ
ফেউয়ের ডাকে শোষক জাগে, হয় শ্রমের সর্বনাশ
বুক ফেটে যায় ভীষণ রাতে প্রাণ করে হাসফাঁস
জানি আমি, জানো তুমি, সবাই জানে সব-ই
মুখ বুজে সব সইতে শেখায় সাধের সভাকবি :
জানাজানি ভালো কিন্তু বুঝতে গেলেই দোষ
চাইতে গেলেই ন্যায্য চাওয়া রাজার জাগে রোষ!
বোঝার চেয়ে জানার সুখে মন মেখে হও একাকার
বুঝলে বেশি ঘটতে পারে হে-বাজারের ম্যাসাকার
মে দিবসের মধ্যরাতে রাজায় দেখায় নতুন মুখ
বলে, অল্প খেয়ে অসময়ে মরলেই পাবে স্বর্গ-সুখ
তাইতো আমরা অল্প খাই, স্বর্গ-সুখের চিন্তা নাই
আমার ঘামের গন্ধ শুষে রাজায় বলে দুঃখ পাই
এবং বলে খাটার সময় ন্যায্য পাওনা ভুলে যাও
পয়লা মে'র শপথ ভুলে ঘামের গাথা মুছে দাও।
কিন্তু ঘামের গাথা সার্বজনীন, বলছে সময় সবার তাই
শপথ নেওয়ার জন্যে দাড়াও ভুলে থাকার সময় নাই
ইতিহাসের পাতায় মোড়া, মে ডে-র কথা শুনে যাও :
শ্রমের মূল্য বুঝে নিতে, দুনিয়ার শ্রমিক, এক হও!
---------xx-----------
👉 দেখুন ফেসবুকের পাতায়
মে দিবসের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ও তাৎপর্য জানতে পড়ুন ‘তথ্য তালাশ’।
এধরনের আরও ছড়া পড়ুন :
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন